পোস্টগুলি

গবাদি প্রাণির স্বাস্থ্য (Livestock health) :

ছবি
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, মাইকোপ্লাজমা (mycoplasma), বা পরজীবী প্রাণীর সংক্রমণ অথবা বিপাক ক্রিয়ায় ভারসাম্যের কারণে একটি প্রাণির স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তদুপরি, আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যবান একটি প্রাণির ভালো প্রজনন স্বাস্থ্য থাকবে এমনও কোন নিশ্চয়তা নেই। গর্ভধারণে ব্যর্থতা, প্রজননক্ষমতা লোপ, ভ্রূণাবস্থায় মৃত্যু ও গর্ভপাত এবং স্ত্রী প্রাণির অন্যান্য রোগের সঙ্গে প্রায়শ দুর্বল প্রজনন কর্মকান্ড সম্পর্কিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস-সৃষ্ট ব্যাধি স্বাভাবিকভাবে একটি প্রাণির মৃত্যুর কারণ হয়, অথচ পরজীবী প্রাণীরা প্রধানত প্রাণির উৎপাদন হ্রাস করে, যদিও পরজীবী কর্তৃক গবাদি প্রাণি মৃত্যুর অনেক উদাহরণ রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া-সৃষ্ট বড় ব্যাধির মধ্যে রক্তদূষণ একটি, অথচ ভাইরাস সৃষ্ট ব্যাধির মধ্যে রয়েছে peste des petits ruminants (ppr), পা ও মুখের রোগ (foot and mouth disease) ও ক্ষণস্থায়ী জ্বর। এটি বলা যায় যে, বাংলাদেশে গবাদি প্রাণি উৎপাদন হ্রাসে পরজীবী প্রাণীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবাদি প্রাণির উল্লেখ করার মতো পরজীবী-সৃষ্ট রোগগুলির মধ্যে রয়েছে ফ্যাসসিওলিয়্যাসিস (fascioliasis), প্য...

গবাদি প্রাণির ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও পরজীবী (Livestock pests and parasites) :

ছবি
পালিত প্রাণির ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও পরজীবীদের মধ্যে আছে আর্থ্রোপোড, কৃমি ও প্রোটোজোয়া, যারা গবাদি প্রাণিকে খাদ্য ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশের নিরক্ষীয় জলবায়ু ও অনুন্নত পশুসেবার দরুন এখানে নানা ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও পরজীবীর অবাধ বিস্তারের অনুকূল বাস্ত্তসংস্থানিক পরিবেশ রয়েছে। বাছাইকৃত এই জাতীয় শতাধিক প্রজাতির মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটিই শুধু সংক্ষেপে বর্ণিত হলো। চিহ্নিত ও গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিপদী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে এঁটেল, মাইট, উকুন ও কিছু মাছি। এঁটেলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য Boophilus microplus, Haemaphysalis bispinosa, Rhipicephalus sanguineus, এবং Hyalomma anatolicum। প্রায় সব জাতের রোমন্থকই এসব এঁটেল দ্বারা সারা বছর কিছুটা আক্রান্ত থাকে। প্রায়শ অল্পবয়সীরা এবং বিদেশী ও সংকর প্রাণীগুলিই অত্যধিক মাত্রায় আক্রান্ত হয়। সব জাতের এঁটেলই ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, তবে H. anatolicum প্রজাতিটি দেশের উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক অঞ্চলে (রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায়) সীমাবদ্ধ। বেশির ভাগ গবাদি পশুই নিম্নোক্ত এক বা একাধিক জাতের উকুন দ্বারা আক্রান্ত হয়: Haematop...

প্রাণিজাত সামগ্রী (Livestock products) :

ছবি
বাংলাদেশে ১৯৯৫-৯৬ সালে উৎপাদিত দুধের পরিমাণ ছিল ১৫.৮ লক্ষ মে টন, ১৯৯৬-৯৭ সালে ১৫.০৯ লক্ষ মে টন এবং ১৯৯৭-৯৮ সালে ১৬.২ লক্ষ মে টন। মাংস উৎপাদনের পরিমাণ ১৯৯৫-৯৬ সালে ছিল ৫.৪ লক্ষ মে টন, ১৯৯৬-৯৭ সালে ৫.৮ লক্ষ মে টন এবং ১৯৯৭-৯৮ সালে ৬.২ লক্ষ মে টন। আরেক হিসাবে দেখা যায় ঐ সময়ে অর্থাৎ ১৯৯৫-৯৬ সালে ডিম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮৩ কোটি ৯ লক্ষ, ১৯৯৬-৯৭ সালে ৩০২ কোটি এবং ১৯৯৭-৯৮ সালে ৩২৫ কোটি ২০ লক্ষ। ২০০৬-০৭ সালে দেশে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন ছিল যথাক্রমে ২২.৮ মিলিয়ন মে টন, ১.০৪ মিলিয়ন মে টন ও ৫৩৬৯ মিলিয়ন । এদেশে গবাদি প্রাণির বৃদ্ধির হার সামান্য, ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত মাত্র ০.২৫%। কম জন্মহার, রোগবালাই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রচুর সংখ্যক গবাদি প্রাণি কোরবানি এবং অপরিকল্পিত প্রাণি জবাই গবাদি প্রাণির বৃদ্ধি হার দমিত থাকার প্রধান কারণ। গরু ও মহিষ লাঙল ও গাড়ি টানায়, রাস্তাঘাটে ও খামারে পরিবহণের কাজে, ধান ও আখ মাড়াই কাজে এবং তৈলবীজ থেকে তেল উৎপাদনে চালিকা শক্তির যোগান দেয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় প্রাণিশক্তির পরিমাণ যথেষ্ট কম। বংশানুগতভাবে নিম্নমানের হওয়ার কারণে বাংলাদেশের ...

প্রাণিসম্পদ (Livestock) :

ছবি
অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষ করে খামারে গবাদি প্রাণি ও হাঁস-মুরগি প্রতিপালন। বাংলাদেশে গবাদি প্রাণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। এগুলো যেকোন দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, কারণ এসব প্রাণি কৃষি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজে চালিকা শক্তি (draft), চামড়া, ও সারের যোগান দেয় এবং জনসংখ্যার বৃহৎ অংশের জন্য মাংস ও দুধের প্রধান উৎস। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পালিত প্রাণিসম্পদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিসম্পদের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে জড়িত রয়েছে গবাদি প্রাণির স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, উৎপাদন উপাত্তগুলির মান এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা-উদ্যোগ প্রসারের কার্যকর ব্যবস্থা। পরিসংখ্যান অনুসারে মোট জাতীয় উৎপাদের (জিডিপি’র) প্রায় ২.৯% যোগায় প্রাণিসম্পদ খাত এবং এটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫%। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২০% গবাদি প্রাণি ও হাঁস-মুরগি পালন ও প্রজনন কর্মসূচির আওতায় জীবিকা নির্বাহ করে। জমিচাষ, ভারবহন এবং গোবরের সার ও জ্বালানি সরবরাহ প্রাণিসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তদুপরি, প্রাণির চামড়া, হাড়, নাড়িভুঁড়ি ও পালক ইত্যাদি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের...

প্রাণিসম্পদ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (Livestock education and training) :

ছবি
এ উপমহাদেশে প্রায় ২০০০ বছর আগে, অশোকের রাজত্বকালে এক ধরনের প্রাণিচিকিৎসার প্রচলন ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে উনিশ শতকের শেষ পঁচিশ বছরে পোষা প্রাণীর চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রাণিচিকিৎসার যথার্থ প্রচলন ঘটে। প্রাণিচিকিৎসাবিদ্যা প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে ১৯৪৭ সালে কুমিল্লায় প্রাণিচিকিৎসা কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) প্রাণিসম্পদবিদ্যার সূচনা ঘটে। এ কলেজ ১০ বছরের বিদ্যালয় পাঠক্রম (ম্যাট্রিকুলেশন) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রাণিচিকিৎসা বিজ্ঞানে ৩ বছরের ডিভিএমএস (DVMS/Diploma in Veterinary Medicine and Surgery) কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ প্রদান শুরু করে। ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে ঢাকায় স্থানান্তরের পর এতে প্রাণিপালনের ওপর ৫ বছর মেয়াদি বি.এসসি (AH) ডিগ্রি কোর্স চালু করা হয়। ১৯৫৭ সালে কলেজটি ময়মনসিংহে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে নবপ্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিসম্পদবিদ্যা স্থানান্তরের পর এ ডিগ্রির নতুন নামকরণ হয় বি.এসসি (Vet Sci & AH)। উৎপাদন ও চিকিৎসা উভয় কার্যক্রম ফলপ...