প্রাণিসম্পদ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (Livestock education and training) :
এ উপমহাদেশে প্রায় ২০০০ বছর আগে, অশোকের রাজত্বকালে এক ধরনের প্রাণিচিকিৎসার প্রচলন ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে উনিশ শতকের শেষ পঁচিশ বছরে পোষা প্রাণীর চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রাণিচিকিৎসার যথার্থ প্রচলন ঘটে। প্রাণিচিকিৎসাবিদ্যা প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে ১৯৪৭ সালে কুমিল্লায় প্রাণিচিকিৎসা কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) প্রাণিসম্পদবিদ্যার সূচনা ঘটে। এ কলেজ ১০ বছরের বিদ্যালয় পাঠক্রম (ম্যাট্রিকুলেশন) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রাণিচিকিৎসা বিজ্ঞানে ৩ বছরের ডিভিএমএস (DVMS/Diploma in Veterinary Medicine and Surgery) কোর্সে অধ্যায়নের সুযোগ প্রদান শুরু করে। ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে ঢাকায় স্থানান্তরের পর এতে প্রাণিপালনের ওপর ৫ বছর মেয়াদি বি.এসসি (AH) ডিগ্রি কোর্স চালু করা হয়। ১৯৫৭ সালে কলেজটি ময়মনসিংহে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে নবপ্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিসম্পদবিদ্যা স্থানান্তরের পর এ ডিগ্রির নতুন নামকরণ হয় বি.এসসি (Vet Sci & AH)। উৎপাদন ও চিকিৎসা উভয় কার্যক্রম ফলপ্রসূভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে নির্ভরযোগ্য প্রাণিচিকিৎসক শ্রেণী গড়ে তোলাই ছিল এ সমন্বিত কোর্সের লক্ষ্য।
১৯৬৩ সালে বি.এসসি (Vet. Sci & AH) ডিগ্রিকে ভেঙে দুটি ডিগ্রি ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (DVM) এবং বি.এসসি AH (Hons) প্রবর্তনের নীতি গ্রহণ করা হয়। উভয় ডিগ্রি পাঠক্রম উচ্চ মাধ্যামিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচ.এসসি) সম্পন্ন করার পর ৪ বছর মেয়াদি। এইচ.এসসি পর্যায়ে আবশ্যক বিষয় হিসেবে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতসহ সমন্বিত বিজ্ঞান কোর্সকে প্রাকপেশাগত পাঠক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রাণিচিকিৎসা পাঠক্রম DVM বিভিন্ন শাখাভিত্তিক বিষয় যেমন শারীরস্থান, শারীরবৃত্ত, অণুজীববিদ্যা, পরজীবীবিদ্যা, রোগতত্ত্ব, পোল্ট্রিবিজ্ঞান, ডেইরিবিজ্ঞান, পুষ্টিবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র ও শল্যবিদ্যার সমন্বয়ে গঠিত।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিগ্রি অর্জনের জন্য পঠিতব্য ১৮টি বিষয় সাধারণভাবে পেশাগত (প্রাণিস্বাস্থ্য ও উৎপাদন) বিষয় এবং মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়- এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। প্রাণিস্বাস্থ্য, প্রাণি উৎপাদন এবং মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়সমূহের শতকরা বিন্যাস যথাক্রমে ৭৮.০, ১২.৫০ এবং ৯.৫০। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক নম্বর বিন্যাস যথাক্রমে ৬০% ও ৪০%।
বি.এসসি AH (Hons) ডিগ্রির জন্য পঠিতব্য ২০টি বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রাণিবিজ্ঞান, ডেইরিবিজ্ঞান, পোল্ট্রিবিজ্ঞান, প্রাণিপুষ্টি, প্রাণি উৎপাদন, প্রাণিখাদ্য, বংশগতিবিদ্যা ও প্রজনন, কৃষিতত্ত্ব, অণুজীববিদ্যা, পরজীবীবিদ্যা, প্রাণরসায়ন, পরিসংখ্যান, সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাসের সার্বিক বণ্টন যথাক্রমে ৭০% ও ৩০%।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং বি.এসসি AH (Hons) কোর্সে বর্তমানে বার্ষিক ভর্তি সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৮০ ও ৭০। এ দুটি কোর্সে ছাত্রী ভর্তি যথাক্রমে প্রায় ৭% ও ২০%। প্রাণি চিকিৎসাবিদ্যা ও প্রাণিপালন অনুষদ দুটির বর্তমান শিক্ষক ও ছাত্র অনুপাত ১ঃ ৫.৪ যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাছাকাছি।
১৯৯০ সাল থেকে প্রায় এককভাবে প্রাণিরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকা থেকে কৃষিশিল্প এবং খাদ্যের জন্য প্রাণি উৎপাদন শিল্প, জনস্বাস্থ্য, জীবচিকিৎসা গবেষণা ও সামরিক পেশা পর্যন্ত সকল কার্যক্রমে প্রা©র্ণসম্পদ বিশেষজ্ঞদের কার্যকর ভূমিকায় বেশ কিছু অবস্থান্তর ঘটেছে। এসব পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Livestock Services/DLS) ও এনজিও ইত্যাদির মতো বিভিন্ন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে DVM ডিগ্রিধারী স্নাতকদের মাঝারি-রকমের দক্ষ বিবেচনা করে। বাংলদেশ সরকার সমন্বিত ডিগ্রিসহ প্রাণিচিকিৎসক তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত চারটি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ গড়ে তোলে: সিলেট সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ, দিনাজপুর সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ এবং বরিশাল সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ, যেগুলি যথাক্রমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত। এগুলির পাঠক্রম অভিন্ন এবং চতুর্থ বর্ষশেষে ইন্টার্নি হিসেবে এক বছরসহ পাঁচ বছরের কোর্সের পর ‘ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বর্তমানে সিলেট ও চট্টগ্রাম সরকারী প্রাণিচিকিৎসা কলেজসমূহ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রাণিচিকিৎসক, সহায়ক কর্মী ও কৃষকদের কার্যক্রমের লাগসই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিভিন্ন এনজিও এবং সংস্থা এসব প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Officers Training Institute/OTI), প্রাণিচিকিৎসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Veterinary Training Institute/VTI) এবং প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Livestock Training Institute/LTI) সহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালনা করে থাকে। এগুলি নিম্নোক্ত ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে:
কর্মকর্তাদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ আবেক্ষাধীন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জন্য OTI এই সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্ত্তর মধ্যে রয়েছে সরকারি নীতিসমূহের পরিচিতি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার এবং ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জনপ্রশাসন, সরকারি আইনকানুন, কর্মী ব্যবস্থাপনা, অফিস ব্যবস্থাপনা, নীতি প্রণয়ন, প্রকল্প প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি।
দুটি প্রাণিচিকিৎসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট-এ সহায়ক কর্মী বর্গের নিম্নোক্ত প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহ প্রদান করা হয়:
ব্যাপক প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মিদল যেমন কম্পাউন্ডার, প্রাণিসম্পদ সহকারী, মাঠ সহকারী এবং প্রাণিখাদ্য/কৃত্রিম প্রজননকারীদের জন্য প্রাণিচিকিৎসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রায় ১২ মাসের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। গবেষণা কলাকৌশল, টিকাদান, চিকিৎসা সহযোগিতা, প্রাণিখাদ্য সম্প্রসারণ ও কৃত্রিম প্রজননের মতো বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য সহায়ক জনবল গড়ে তোলাই এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য।
সহায়ক কর্মিবর্গের জন্য নবায়নী শিক্ষাক্রম ফসলের উপজাতের ব্যবহার, ইউরিয়ামিশ্রিত খড়, বিদেশী প্রাণিখাদ্যের প্রকারভেদগুলির সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়ে সহায়ক কর্মিবর্গের জ্ঞান হালনাগাদ করার জন্য চাকরিকালীন ২-৩ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ।
সংযোগ চাষীদের প্রশিক্ষণ সাধাণত দুটি LTI আয়োজিত সম্প্রসারণ কর্মী ও কৃষকদের মধ্যে সংযোগ চাষী অর্থাৎ যোগাযোগকারী হিসেবে কাজ করার জন্য নির্বাচিত কৃষকদের (২-৩ সপ্তাহ) প্রশিক্ষণ।
হাঁস-মুরগি চাষীদের প্রশিক্ষণ (১২ সপ্তাহব্যাপী) ইতোমধ্যে হাঁস-মুরগি পালন করছেন অথবা ছোটখাটো খামার স্থাপনের মৌলিক দক্ষতা ও সামর্থ্য রয়েছে এমন কৃষক, বিশেষত মহিলাদের জ্ঞান ও দক্ষতা হালনাগাদ করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালিত পোল্ট্রি খামারগুলির মাধ্যমে প্রদত্ত প্রশিক্ষণ।
এনজিও পরিচালিত প্রশিক্ষণ প্রাণিসম্পদ কার্যক্রমে নিয়োজিত অধিকাংশ এনজিও আগ্রহী অথবা নিবন্ধিত কৃষকদের জন্য হাঁস-মুরগির টিকাদান, গবাদি প্রাণি পালন, কৃত্রিম প্রজনন প্রভৃতি বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কোর্সের আয়োজন করে থাকে। কয়েকটি এনজিও ৩ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে উপ-প্রাণিচিকিৎসক (Para-vets) তৈরিতেও কাজ করছে।
যুবপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অন্যান্যদের পরিচালিত প্রশিক্ষণদেশের প্রায় ৯টি যুবপ্রশিক্ষণ কেন্দ্রও বেকার যুবকদের জন্য প্রাণিসম্পদ উৎপাদন কৌশলের ওপর তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে। আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পরিকল্পিত এসব কোর্সে হাঁস-মুরগি ও গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন, গবাদি প্রাণির টিকাদান, প্রাথমিক চিকিৎসা ও উৎপাদন কৌশল অন্তর্ভুক্ত। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া এবং মিল্ক ভিটা একই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। [মোঃ হাফেজুর রহমান]
১৯৬৩ সালে বি.এসসি (Vet. Sci & AH) ডিগ্রিকে ভেঙে দুটি ডিগ্রি ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (DVM) এবং বি.এসসি AH (Hons) প্রবর্তনের নীতি গ্রহণ করা হয়। উভয় ডিগ্রি পাঠক্রম উচ্চ মাধ্যামিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচ.এসসি) সম্পন্ন করার পর ৪ বছর মেয়াদি। এইচ.এসসি পর্যায়ে আবশ্যক বিষয় হিসেবে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতসহ সমন্বিত বিজ্ঞান কোর্সকে প্রাকপেশাগত পাঠক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রাণিচিকিৎসা পাঠক্রম DVM বিভিন্ন শাখাভিত্তিক বিষয় যেমন শারীরস্থান, শারীরবৃত্ত, অণুজীববিদ্যা, পরজীবীবিদ্যা, রোগতত্ত্ব, পোল্ট্রিবিজ্ঞান, ডেইরিবিজ্ঞান, পুষ্টিবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র ও শল্যবিদ্যার সমন্বয়ে গঠিত।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিগ্রি অর্জনের জন্য পঠিতব্য ১৮টি বিষয় সাধারণভাবে পেশাগত (প্রাণিস্বাস্থ্য ও উৎপাদন) বিষয় এবং মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়- এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। প্রাণিস্বাস্থ্য, প্রাণি উৎপাদন এবং মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়সমূহের শতকরা বিন্যাস যথাক্রমে ৭৮.০, ১২.৫০ এবং ৯.৫০। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক নম্বর বিন্যাস যথাক্রমে ৬০% ও ৪০%।
বি.এসসি AH (Hons) ডিগ্রির জন্য পঠিতব্য ২০টি বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রাণিবিজ্ঞান, ডেইরিবিজ্ঞান, পোল্ট্রিবিজ্ঞান, প্রাণিপুষ্টি, প্রাণি উৎপাদন, প্রাণিখাদ্য, বংশগতিবিদ্যা ও প্রজনন, কৃষিতত্ত্ব, অণুজীববিদ্যা, পরজীবীবিদ্যা, প্রাণরসায়ন, পরিসংখ্যান, সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাসের সার্বিক বণ্টন যথাক্রমে ৭০% ও ৩০%।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং বি.এসসি AH (Hons) কোর্সে বর্তমানে বার্ষিক ভর্তি সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৮০ ও ৭০। এ দুটি কোর্সে ছাত্রী ভর্তি যথাক্রমে প্রায় ৭% ও ২০%। প্রাণি চিকিৎসাবিদ্যা ও প্রাণিপালন অনুষদ দুটির বর্তমান শিক্ষক ও ছাত্র অনুপাত ১ঃ ৫.৪ যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাছাকাছি।
১৯৯০ সাল থেকে প্রায় এককভাবে প্রাণিরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকা থেকে কৃষিশিল্প এবং খাদ্যের জন্য প্রাণি উৎপাদন শিল্প, জনস্বাস্থ্য, জীবচিকিৎসা গবেষণা ও সামরিক পেশা পর্যন্ত সকল কার্যক্রমে প্রা©র্ণসম্পদ বিশেষজ্ঞদের কার্যকর ভূমিকায় বেশ কিছু অবস্থান্তর ঘটেছে। এসব পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Livestock Services/DLS) ও এনজিও ইত্যাদির মতো বিভিন্ন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে DVM ডিগ্রিধারী স্নাতকদের মাঝারি-রকমের দক্ষ বিবেচনা করে। বাংলদেশ সরকার সমন্বিত ডিগ্রিসহ প্রাণিচিকিৎসক তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত চারটি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ গড়ে তোলে: সিলেট সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ, দিনাজপুর সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ এবং বরিশাল সরকারি প্রাণিচিকিৎসা কলেজ, যেগুলি যথাক্রমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত। এগুলির পাঠক্রম অভিন্ন এবং চতুর্থ বর্ষশেষে ইন্টার্নি হিসেবে এক বছরসহ পাঁচ বছরের কোর্সের পর ‘ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বর্তমানে সিলেট ও চট্টগ্রাম সরকারী প্রাণিচিকিৎসা কলেজসমূহ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রাণিচিকিৎসক, সহায়ক কর্মী ও কৃষকদের কার্যক্রমের লাগসই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিভিন্ন এনজিও এবং সংস্থা এসব প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Officers Training Institute/OTI), প্রাণিচিকিৎসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Veterinary Training Institute/VTI) এবং প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (Livestock Training Institute/LTI) সহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালনা করে থাকে। এগুলি নিম্নোক্ত ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে:
কর্মকর্তাদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ আবেক্ষাধীন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জন্য OTI এই সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্ত্তর মধ্যে রয়েছে সরকারি নীতিসমূহের পরিচিতি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার এবং ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জনপ্রশাসন, সরকারি আইনকানুন, কর্মী ব্যবস্থাপনা, অফিস ব্যবস্থাপনা, নীতি প্রণয়ন, প্রকল্প প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি।
দুটি প্রাণিচিকিৎসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট-এ সহায়ক কর্মী বর্গের নিম্নোক্ত প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহ প্রদান করা হয়:
ব্যাপক প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মিদল যেমন কম্পাউন্ডার, প্রাণিসম্পদ সহকারী, মাঠ সহকারী এবং প্রাণিখাদ্য/কৃত্রিম প্রজননকারীদের জন্য প্রাণিচিকিৎসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রায় ১২ মাসের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। গবেষণা কলাকৌশল, টিকাদান, চিকিৎসা সহযোগিতা, প্রাণিখাদ্য সম্প্রসারণ ও কৃত্রিম প্রজননের মতো বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য সহায়ক জনবল গড়ে তোলাই এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য।
সহায়ক কর্মিবর্গের জন্য নবায়নী শিক্ষাক্রম ফসলের উপজাতের ব্যবহার, ইউরিয়ামিশ্রিত খড়, বিদেশী প্রাণিখাদ্যের প্রকারভেদগুলির সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়ে সহায়ক কর্মিবর্গের জ্ঞান হালনাগাদ করার জন্য চাকরিকালীন ২-৩ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ।
সংযোগ চাষীদের প্রশিক্ষণ সাধাণত দুটি LTI আয়োজিত সম্প্রসারণ কর্মী ও কৃষকদের মধ্যে সংযোগ চাষী অর্থাৎ যোগাযোগকারী হিসেবে কাজ করার জন্য নির্বাচিত কৃষকদের (২-৩ সপ্তাহ) প্রশিক্ষণ।
হাঁস-মুরগি চাষীদের প্রশিক্ষণ (১২ সপ্তাহব্যাপী) ইতোমধ্যে হাঁস-মুরগি পালন করছেন অথবা ছোটখাটো খামার স্থাপনের মৌলিক দক্ষতা ও সামর্থ্য রয়েছে এমন কৃষক, বিশেষত মহিলাদের জ্ঞান ও দক্ষতা হালনাগাদ করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালিত পোল্ট্রি খামারগুলির মাধ্যমে প্রদত্ত প্রশিক্ষণ।
এনজিও পরিচালিত প্রশিক্ষণ প্রাণিসম্পদ কার্যক্রমে নিয়োজিত অধিকাংশ এনজিও আগ্রহী অথবা নিবন্ধিত কৃষকদের জন্য হাঁস-মুরগির টিকাদান, গবাদি প্রাণি পালন, কৃত্রিম প্রজনন প্রভৃতি বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কোর্সের আয়োজন করে থাকে। কয়েকটি এনজিও ৩ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে উপ-প্রাণিচিকিৎসক (Para-vets) তৈরিতেও কাজ করছে।
যুবপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অন্যান্যদের পরিচালিত প্রশিক্ষণদেশের প্রায় ৯টি যুবপ্রশিক্ষণ কেন্দ্রও বেকার যুবকদের জন্য প্রাণিসম্পদ উৎপাদন কৌশলের ওপর তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে। আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পরিকল্পিত এসব কোর্সে হাঁস-মুরগি ও গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন, গবাদি প্রাণির টিকাদান, প্রাথমিক চিকিৎসা ও উৎপাদন কৌশল অন্তর্ভুক্ত। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া এবং মিল্ক ভিটা একই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। [মোঃ হাফেজুর রহমান]

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন