প্রাণিসম্পদ (Livestock) :

অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষ করে খামারে গবাদি প্রাণি ও হাঁস-মুরগি প্রতিপালন। বাংলাদেশে গবাদি প্রাণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। এগুলো যেকোন দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, কারণ এসব প্রাণি কৃষি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজে চালিকা শক্তি (draft), চামড়া, ও সারের যোগান দেয় এবং জনসংখ্যার বৃহৎ অংশের জন্য মাংস ও দুধের প্রধান উৎস। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পালিত প্রাণিসম্পদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাণিসম্পদের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে জড়িত রয়েছে গবাদি প্রাণির স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, উৎপাদন উপাত্তগুলির মান এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা-উদ্যোগ প্রসারের কার্যকর ব্যবস্থা। পরিসংখ্যান অনুসারে মোট জাতীয় উৎপাদের (জিডিপি’র) প্রায় ২.৯% যোগায় প্রাণিসম্পদ খাত এবং এটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫%। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২০% গবাদি প্রাণি ও হাঁস-মুরগি পালন ও প্রজনন কর্মসূচির আওতায় জীবিকা নির্বাহ করে। জমিচাষ, ভারবহন এবং গোবরের সার ও জ্বালানি সরবরাহ প্রাণিসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তদুপরি, প্রাণির চামড়া, হাড়, নাড়িভুঁড়ি ও পালক ইত্যাদি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সহায়ক। প্রাণিসম্পদ ভূমিহীন মানুষের জীবিকার একটা বড় অবলম্বন।

বর্তমানে এ দেশে ২৫.৭ মিলিয়ন গরু, ০.৮৩ মিলিয়ন মহিষ, ১৪.৮ মিলিয়ন ছাগল, ১.৯ মিলিয়ন ভেড়া, ১১৮.৭ মিলিয়ন মুরগি এবং ৩৪.১ মিলিয়ন হাঁস রয়েছে । প্রতি একর আবাদযোগ্য জমিতে প্রাণি-পাখির ঘনত্ব ৭.৩৭। বছরের পর বছর এদেশে প্রাণি-পাখির ঘনত্ব বেড়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় হেক্টর প্রতি প্রাণি-পাখির ঘনত্ব বাংলাদেশে বেশি। কিন্তু এসব প্রাণি-পাখির তুলনায় উৎপাদনশীলতা খুবই কম বিধায় প্রয়োজনের তুলনায় প্রাণি-পাখি উপজাতের জনপ্রতি প্রাপ্যতা খুবই কম। দেশে বর্তমানে দুধ, মাংস ও ডিমের ঘাটতি যথাক্রমে শতকরা ৮৫.৯, ৮৮.১ এবং ৭০.৭ ভাগ। অতি সম্প্রতি এসব উপজাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারে বেশ উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ জাতীয় উৎপাদন থেকে দেশের চাহিদা মেটাতে হলে এসব উপজাতের উৎপাদন ন্যুনপক্ষে বছরে গড়ে শতকরা ৬ থেকে ৯ ভাগ হারে বাড়িয়ে যেতে হবে। সে জন্যে প্রাণি-পাখি উপখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাণি-পাখির গবেষণা ও সম্প্রসারণ খাতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগ করা হলে বছরে গড়ে আয় হবে পণ্যভেদে ১.৪২ থেকে ৩.১৫ টাকা।

বাংলাদেশের শতকরা ৮৩.৯ ভাগ পরিবার প্রাণি-পাখি প্রতিপালন করছে। তবে শুধু গরু-মহিষ প্রতিপালন করছে শতকরা ৪৫.৯ ভাগ পরিবার। এ ছাড়া ছাগল-ভেড়া প্রতিপালন করছে শতকরা ৩১.৪ ভাগ এবং হাঁস-মুরগি শতকরা ৭৬.৩ ভাগ পরিবার। প্রতিটি পরিবারে গড়ে ১.৫ টি গরু-মহিষ, ০.৯টি ছাগল-ভেড়া ও ৬.৮ টি হাঁস-মুরগি রয়েছে।

এখানে লক্ষণীয় বিয়ষ এই যে পরিবার প্রতি প্রাণি-পাখি সম্পদের বণ্টনে অসমতা খুবই কম। ১৯৯২ সালে দেশের ৬২টি গ্রামে পরিচালিত জরিপ থেকে গিনী কোয়েফিশিয়েন্ট-এর পরিমাপে কৃষি জমি বণ্টনের পুঞ্জিভবন যেখানে ০.৬৩ পাওয়া গেছে, সেখানে প্রাণিসম্পদ বণ্টনের অসমতা পাওয়া গেছে মাত্র ০.৩০। এর পর এরূপ অসমতার হার বেড়েছে। ১৯৯৬ সালের কৃষি সুমারী অনুযায়ী দেশে জমি বণ্টনের অসমতা যথাক্রমে ০.৩৭ এবং ০.১৭ লক্ষ্য করা গেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে প্রাণি-পাখি উপখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে আয় বণ্টনের অসমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নানা উপাত্তনির্ভর। এগুলি হলো গবাদি প্রাণি স্বাস্থ্য সেবা, প্রাণি-সহায়ক কার্যক্রম, প্রাণি-সন্বন্ধীয় জীববস্ত্তর বিলিব্যবস্থা, মানসম্পন্ন উৎপাদনের বিস্তরণ, প্রাণিসম্প্রসারণ সেবা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা। প্রাণির বিবিধ স্বাস্থ্যসমস্যা, যেমন রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, রোগ নিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ মোকাবিলা ইত্যাদি প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি প্রধান দিক। এগুলি ছাড়াও আরও কিছু অপরিহার্য দিকও রয়েছে, যেমন জাত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাণির শ্রীবৃদ্ধি, কৃত্রিম গর্ভাধান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ইত্যাদি। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত খাতসহ বাংলাদেশে নানা সংস্থা প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমে শরিক হতে পারে। বাংলাদেশের গরুর দেশী জাতগুলি উচ্চফলনশীল নয়। ভারত বিভাগের আগে লর্ড লিনলিথগো দেশী গরু উন্নয়নের জন্য বাংলা প্রদেশে কয়েকটি হরিয়ানা গরু আমদানি করেন। ১৯৪৭ সালের পরবর্তীকালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে সিন্ধি, শাহীয়াল, থারপার্কার ইত্যাদি কয়েক জাতের গরু আনা হয়। স্থানীয় জাতগুলি উন্নয়নের জন্য ১৯৫৮ সালে শুরু হয় কৃত্রিম গর্ভাধান। ১৯৬৯-১৯৮২ সাল পর্যন্ত জার্মান বিশেষজ্ঞরা সাভার গবাদি প্রাণির খামারে হালচাষ/ভারবাহী ষাঁড় ও দুধেল গাইয়ের উপযুক্ত জাত উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। ১৯৭৪ সালে অস্ট্রেলীয় সরকার বাংলাদেশকে হোলস্টেন ফ্রিসিয়ান জাতের কিছু প্রজনক ষাঁড় ও দুধেল গাই উপহার দেয়। তদুপরি দেশী গরু উন্নয়নের জন্য Bos taurus প্রজাতির ষাঁড়ের হিমায়িত শুত্রুও আনা হয়েছিল জার্মানি, আমেরিকা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান থেকে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এজেন্সির (JICA) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দুই দেশের বিজ্ঞানীরা সাফল্যের সঙ্গে ভ্রূণ সংস্থাপন করেন।

বাংলাদেশে লভ্য প্রাণির জাতগুলি নিম্নরূপ: গরু: ১. দেশী গরুর জাত– দেশী জাতের লাল চট্টগ্রাম, গয়াল, পাবনা গরু; ২. বিদেশী– হরিয়ানা, সিন্ধি, শাহীয়াল, জের্সি ও হোলস্টেন ফ্রিসিয়ান; ৩. সংকর– Bos indicus  Bos taurus; মহিষ: ১. নদী জাতের; ২. বাদা জাতের; ৩. নদী  বাদা জাতের; ছাগল: ১. ব্লাক বেঙ্গল; ২. যমুনা পাড়ি; ৩. ব্লাক বেঙ্গল  যমুনা পাড়ির সংকর; ভেড়া: শ্রেণীহীন দেশী জাতের; মুরগি: ১. শ্রেণীহীন দেশী জাতের– আসিল, চাটগেঁয়ে, উদলা গলা; ২. বিদেশী– সাদা লেগহর্ন, রোড আইল্যান্ড রেড, ফাওমি, অস্ট্রালোপ, কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্রয়লার ও ডিম পাড়া জাত; ৩. সংকর– স্থানীয়  বিদেশী; হাঁস: ১. দেশী জাতের– সিলেটী মাটিহাঁস, নাগেশ্বরী, মস্কভি, রাজহাঁস; ২. বিদেশী খাকি ক্যাম্বেল, ভারতীয় রানার, জিনডিং, চেরি ভ্যালি; ৩. সংকর– দেশী  বিদেশী। শূকর: দেশী জাত।

ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়নের জন্য দেশে সরকারি উদ্যোগে অনেকগুলি খামার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উন্নত জাতের পাঁঠা গ্রামের নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে এবং উন্নত জাতের ছাগী আয় উপার্জনের জন্য ভূমিহীন দরিদ্র কিষানীদের মধ্যে বিলি করা হয়। সরকারি খাতের পাশাপাশি দেশে ব্যক্তিগত খাতেও ব্যবসায় উদ্যোক্তা আছেন যারা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন খামার পরিচালনা করেন।

দেশী জাতের হাঁস-মুরগি আকারে ছোট, ডিম পাড়ে কম। সরকার দেশের অনেক জায়গায় বহু মুরগি ও হাঁসের খামার প্রতিষ্ঠা করেছে। আশির দশকের মাঝামাঝি ইউনিসেফ প্রদত্ত আর্থিক সহায়তায় গ্রামের অনেক বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে কয়েকটি হাঁস-মুরগি পালন ইউনিট স্থাপিত হয়েছে। দুটি সংকর জাতের মোরগ- ‘রূপালী’ (সাদা লেগহর্ন মুরগা  ফাওমি মুরগি) ও ‘সোনালী’ (আর আই আর মুরগা  ফাওমি মুরগি) বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে সুঅভিযোজিত হয়ে আছে।

বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হাঁস-মুরগির অনেকগুলি জাতই বাংলাদেশে এখন সুপ্রতিষ্ঠিত এবং বিভিন্ন খামারে লাভজনকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে। সরকার ও হাঁস-মুরগি ব্যবসায়ীদের গৃহীত সম্প্রসারণ উদ্যোগের ফলে দেশে এই জাতীয় খামার ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি খামার ছাড়াও সামরিক বিভাগের এই জাতীয় কিছু খামার রয়েছে যা সেনাবাহিনীর আংশিক চাহিদা মিটায়।

দেশের কয়েকটি এলাকায় অধিবাসীরা ভারবাহী হিসেবে ঘোড়া পোষে। দেশে কত ঘোড়া আছে তা আজও হিসাব করা হয় নি।

দুধ, মাংস ও ডিমের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং গ্রামের দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই কর্মকান্ডের প্রায়োগিক দিকগুলির কার্যকর সংগঠনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের অন্যান্য প্রাণিবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মতো নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের জন্য গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বর্ধিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার সংকর দুধেল গাই পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে থাকে। টিকা এবং কৃত্রিম গর্ভাধানেও সরকার যথেষ্ট সহযোগিতা করে।

বাংলাদেশে প্রাণি-পাখির ঘনত্ব বেশি, কিন্তু এদের উৎপাদনশীলতা কম। সে কারণে এ দেশে প্রাণি-পাখিজাত পণ্য সামগ্রীর বিরাট ঘাটতি রয়ে গেছে। এ ঘাটতির পেছনে রয়েছে প্রাণি-পাখির অনুন্নত জাত, খাদ্য সমস্যা, রোগ ও ব্যবস্থাপনা সমস্যা ইত্যাদি। দেশের প্রাণি-পাখি সম্পদের উন্নয়নের জন্যে উল্লেখিত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া প্রাণি-পাখিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণের অসুবিধাসমূহ দূর করতে হবে এবং প্রাণি-পাখির খামার পরিচালনার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে হবে। এ সকল লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে ইতিপূর্বে বিস্তারিতভাবে অনেক বাস্তবমুখী সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু সুপারিশ পেশ করা হলো:

১. প্রাণি-পাখির জাত উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং দেশী উন্নত জাতগুলো সংরক্ষণ।

২. উন্নত ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও প্রাণি-পাখির খাদ্য প্রস্ত্ততকারী কারখানা স্থাপনে উৎসাহ প্রদান।

৩. প্রাণি-পাখির টিকা উৎপাদন, প্রদান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।

৪. উন্নত খামার ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান।

৫. নতুন খামার স্থাপনে বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধান।

৬. প্রাণি খাদ্য ও প্রাণি চিকিৎসা সামগ্রীর মূল্য কৃষকদের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার জন্য ভর্তুকি প্রদান।

৭. প্রাণি-পাখির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজে বেসরকারি সংস্থাসমূহকে সম্পৃক্তকরণ।

৮. প্রাণি-পাখি সংক্রান্ত গবেষণায় অগ্রাধিকার প্রদান।

৯. প্রাণি-পাখিজাত পণ্য সামগ্রীর সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে বিশেষ সুবিধা প্রদান।

১০. সহজ শর্তে এবং অল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদানের নিশ্চয়তা বিধান।

১১. প্রাণি-পাখির উন্নয়নে সরকারি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকরণ।

১২. ভূমিহীন কৃষক ও গ্রামীণ মহিলাদের জন্যে প্রাণি-পাখি প্রতিপালনের বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ।

বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। এদের কষ্ট লাঘবের জন্যে তথা দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্যে একাধারে প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক এবং লক্ষ্য গোষ্ঠী কেন্দ্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রাণি সম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ দু’ধরণের কর্মসূচিরই সফল বাস্তবায়ন সম্ভব।

প্রাণি সম্পদ উপখাতে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি। কিন্তু তাতে আয় বৈষম্য বৃদ্ধির সুাযাগ খুবই কম। অতএব, এ উপখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে আয়, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অসমতার উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাতে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, সাধারণ মানুষের আয় বেড়ে যাবে, তাদের পুষ্টিহীনতা হ্রাস পাবে এবং আর্থ-সামাজিক বঞ্চনা ও বৈষম্য কমে আসবে। সে কারণে প্রাণি-পাখি সম্পদের উন্নয়নের জন্যে সরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে লক্ষ্য গোষ্ঠী কেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে নিবিড়তর করতে হবে। তাতে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্য সফল হবে।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে বাংলাদেশের কৃষকগণ প্রাণি-পাখি প্রতিপালন করেই জীবিকা নির্বাহী করে না। তারা মিশ্র খামার পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। তাদের আয়ের উৎস অনেক। প্রাণি-পাখি এদের মধ্যে একটি মাত্র উৎস। অতএব, প্রাণি-পাখির উন্নয়ন দেশের দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য দূরীকরণে কতটুকু প্রভাব ফেলছে তা নিরূপণে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে প্রাণি-পাখি প্রতিপালনের মাধ্যমে ছোট ও ভূমিহীন কৃষকদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে কিনা এবং তাতে তাদের দারিদ্রে্যর উপর কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে কিনা তা নির্ণয় করা দূরূহ কিছু নয়। এ বিষয়ে নিয়মিত সমীক্ষা পরিচালনা করা একান্ত প্রয়োজন। [শেখ হেফাজউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম]

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রাণিসম্পদ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (Livestock education and training) :

গবাদি প্রাণির ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও পরজীবী (Livestock pests and parasites) :